শনিবার ১৩ জুন ২০২৬
Online Edition

বীজআলুর সিন্ডিকেট

 à¦à¦®à¦¨à¦¿à¦¤à§‡à¦‡ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে চরম ভোগান্তিতে আছে সাধারণ মানুষ। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণে নানা পদক্ষেপ নিলেও তার তেমন বাস্তব প্রভাব নেই বললেই চলে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সিন্ডিকেটকে দুষছেন। সিন্ডিকেট ভাঙতে যতটা শক্তিশালী ভূমিকা রাখা দরকার, তা দেখা যাচ্ছে না। ফলে বাজারে নানাভাবে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা অব্যাহত আছে। যেমনটি দেখা যাচ্ছে জয়পুরহাটে বীজ আলুর ক্ষেত্রে।  

বাজারে এখন যেসব খাদ্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী, তার মধ্যে অন্যতম আলু। আলুর দাম নিয়ন্ত্রণে দুই মাস আগে পণ্যটির আমদানি শুল্ক কমানো হয়। এরপর আমদানিও হয়েছে। তবে বাজারে এর প্রভাব দেখা যায়নি; বরং দাম বেড়েছে। আলুর বাড়তি চাহিদার কারণে মজুতদারেরা ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছেন। মজুতদারি রোধে তদারকি ও অভিযান পরিচালনায় যথেষ্ট ঘাটতি আছে বলে জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বীজআলুর ক্ষেত্রেও।

রিপোর্টে প্রকাশ, জয়পুরহাটে মৌসুম শুরুর আগেই বীজ আলুর কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। এভাবে কারসাজির মাধ্যমে কৃষকদের কাছ থেকে তাঁরা টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত জোগান থাকলেও বেশির ভাগ ব্যবসায়ী তাঁদের দোকান ও গুদামে বীজআলু রাখছেন না। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে মণপ্রতি দেড় থেকে দুই হাজার টাকা বেশি রেখে অজ্ঞাত স্থান থেকে কৃষকের কাছে বীজআলু পৌঁছে দিচ্ছেন তাঁরা।

প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করলেও তা নিয়েও আছে অভিযোগ। কৃষকেরা বলছেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে লোকদেখানো জরিমানা ছাড়া তেমন কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। বীজআলুর সংকটের অজুহাতে মৌসুমি ব্যবসায়ীরাও খাওয়ার উপযোগী আলু বিভিন্ন কোম্পানির মোড়কে প্যাকেটজাত করছেন। এসব নি¤œà¦®à¦¾à¦¨à§‡à¦° বীজআলু কিনে কৃষকদের প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জয়পুরহাট জেলায় আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২০ হাজার মেট্রিক টন বেশি বীজআলুর চাহিদা আছে। এখনও আমন ধান কাটা-মাড়াইয়ের কাজ শেষ হয়নি। এ কারণে পুরোদমে আলুর চাষ শুরু হয়নি। বাজারে যে পরিমাণ বীজআলুর সরবরাহ আছে, তাতে কোনও সংকট হবার কথা নয়।

কৃষি বিপণন কর্মকর্তার বক্তব্য, তাঁরা বীজআলুর বাজার তদারক করছেন। স্থানীয় প্রশাসনও তাঁদের সহযোগিতা করছে। দাম বেশি রাখায় ডিলারদের জরিমানা করা হয়েছে। তাঁদের ডিলারশিপ বাতিলের জন্য পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বাজার তদারকিও অব্যাহত আছে।

কৃষকদের আশা, কোনও প্রকার মজুতদারিকে প্রশ্রয় দেয়া হবে না। ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগের ভিত্তিতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা জরুরি। যেসব অসাধু ব্যবসায়ী অজ্ঞাত স্থান থেকে বীজআলু সরবরাহ করছেন, চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক। অন্যথায় আলুর বীজ নিয়ে যে কারসাজি শুরু হয়েছে তা এবার আলুচাষ ব্যাহত করবে। তাই এ ব্যাপারে এখনই ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ